এই আর্টিকেলে সাব ডোমেইন এবং সাব ডিরেক্টরি এর মধ্যকার পার্থক্য আলোচনা করা হয়েছে। এই দুইটি বিষয় বিস্তারিত তুলে ধরা হয়েছে। এ সম্পর্কে ধারণ...
এই আর্টিকেলে সাব ডোমেইন এবং সাব ডিরেক্টরি এর মধ্যকার পার্থক্য আলোচনা করা হয়েছে। এই দুইটি বিষয় বিস্তারিত তুলে ধরা হয়েছে। এ সম্পর্কে ধারণা থাকলে ওয়েবসাইট তৈরির পরিকল্পনার সময় আপনি সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন।
বিশেষ করে ইন্টারন্যাশনাল এস ই ও এর কাজ করার আগে এই বিষয়টা জেনে রাখা অত্যন্ত জরুরী।
সাব ডোমেইন এবং সাব ডিরেক্টরি
মনে করুন আপনার ভাই কিংবা বোন রয়েছে। আপনারা দুজনেই বাসায় একই রকম সুবিধা পেয়ে থাকেন। দুজনেই একই রকম যত্ন পেয়ে থাকেন। কিন্তু দুজনের প্রকৃতিতে কিছুটা ভিন্নতা রয়েছে। একজন হয়তো একটা জিনিস খেতে পছন্দ করে আরেকজন হয়তো আরেকটি জিনিস খেতে পছন্দ করে। একজন হয়তো ছাত্র হিসেবে ভালো, আরেকজন হয়তো না। কিন্তু যদি আপনাদের দুইজনকে জিজ্ঞাসা করা হয় আপনাদের মধ্যে বাবার কাছে সবচেয়ে প্রিয় কে? এর উত্তর একেক জন একেক রকম দিবে। তবে দুইজনের টাই সঠিক হবে।
সাব ডোমেইন এবং সাব ডিরেক্টরি দুইটিই এরকম একই ঘরের দুইজন শিশু। ডোমেইন নেইমকে আপনি পিতা মনে করেন এবং হোস্টিং সার্ভারকে মা মনে করেন। দুইটি শিশুই আপনার ওয়েবসাইটটিকে রিপ্রেজেন্ট করে। দুইজনের মেজাজ ভিন্ন ভিন্ন। দুইজনের উপকারিতা ভিন্ন ভিন্ন। দুইজনের মাঝেই কমতি রয়েছে। আপনার কোনটি ব্যবহার করা উচিত এটি সম্পূর্ণরূপে আপনার ব্যবহারের ক্ষেত্রের উপর নির্ভর করে।
প্রথমেই যে প্রশ্নটি আসে সেটি হলো সাব ডোমেইন আর সাব ডিরেক্টরি কী?
সাব ডোমেইন
টেকনিক্যাল ভাষায় যদি বলা হয় তাহলে আমরা অসংখ্য সাবডোমেইনকে ব্যবহার করে যাচ্ছি। প্রতিটি ওয়েবসাইটের সামনে থাকা www একটি সাবডোমেইন।
উদাহরণস্বরূপ www.abcd.com ওয়েবসাইটের abcd.com হলো ডোমেইন আর www হলো এই ডোমেইনের সাবডোমেইন। একটা সময় ছিল যখন প্রফেশনাল হোস্টিং কোম্পানী ছিল না, ডেডিকেটেড ইমেইল সার্ভিস ছিল না। কোম্পানি নিজেদের সার্ভার ম্যানেজ করতো। তখন বিষয়টা অনেকটা এমন ছিল।
- ওয়েবসাইট www.abcd.com
- ইমেইল mail.abcd.com
- ফাইল ট্রান্সফার ftp.abcd.com
ধীরে ধীরে ইমেইল এর জন্য জিমেইল এবং আউটলুক আসলো। ফাইল শেয়ার এর জন্য গুগল ড্রাইভ এবং ড্রপবক্স আসলো। কিন্তু www নামের সাবডোমেইনটি ওয়েবসাইটে আজও চলছে। অনেকেই www ব্যবহারের কারণ সম্পর্কে অজ্ঞাত। তবুও তারা www ব্যবহার করে আসছে।
আপনার ওয়েবসাইট যদি abcd.com হয় তাহলে। এর সাবডোমেইন গুলো এমন হতে পারে।
- www.abcd.com
- abc.abcd.com
- xyz.abcd.com
- sample.abcd.com
মেইন ডোমেইন এর পূর্বে ডট (.) এর সাথে কোনো বাক্যাংশ বা শব্দ ব্যবহার করা হলে তাহলে তা সাবডোমেইন হবে।
সাব ডিরেক্টরি
সাব ডিরেক্টরিতে ডিরেক্টরি এর অর্থ ফোল্ডার। সাব ডিরেক্টরি কে সাব ফোল্ডার ও বলা যায়। যদি আপনি কোনো ডোমেইনকে কোনো হোস্টিং সার্ভার এ যুক্ত করেন তখন সেই ডোমেইনটি আপনার হোস্টিং সার্ভার এর একটি ফোল্ডারের সাথে সংযুক্ত হয়ে যায়। এই ফোল্ডারটি আপনার ডোমেইন এর ৰূট ফোল্ডার। এই ৰূট ফোল্ডার এর অভ্যন্তরে আপনি যেই যেই ফোল্ডার তৈরী করবেন তা একটি সব ফোল্ডার হবে।
উদাহরণ স্বরূপ abcd.com ডোমেইন এর ক্ষেত্রে সাব ডিরেক্টরি বা সব ফোল্ডারগুলো অনেকটা এমন হবে। ইমেজ, সি এস এস জাভাস্ক্রিপ্ট এর জন্য যে আলাদা আলাদা ফোল্ডার তৈরী হবে সেগুলোর সবগুলো সাব ফোল্ডার বা সাব ডিরেক্টরী।
- abcd.com/images
- abcd.com/css
- abcd.com/js
সাব ডোমেইন এবং সাব ডিরেক্টরি এর তুলনামূলক উদাহরণ
- abc.abcd.com একটি সাবডোমেইন
- abcd.com/abc একটি সাব ডিরেক্টরি
সাব ডোমেইন এবং সাব ডিরেক্টরি এর সুবিধা এবং অসুবিধা
চারটি পয়েন্ট এর উপর ভিত্তি করে এদের সুবিধা অসুবিধা আলোচনা করা হলো।
- ব্যবহারকারীর অভিজ্ঞতা
- ব্র্যান্ডিং
- ডেভেলপমেন্ট
- এস ই ও
ব্যবহারকারীর অভিজ্ঞতা
এটি একটি বিষয়গত দিক। তবে সাবডোমেইন ব্যবহারকারীকে সুবিধাজনক অপশন দেয়। blog.abcd.com মনে রাখা খুবই সহজ কিন্তু abcd.com/blog মনে রাখা একটু কঠিন।
সাব ডিরেক্টরি ইউআরএল এ স্ল্যাশ এর পরে আসে। তাই আপনার ওয়েবসাইটকে বার বার ব্যাবহার কোনো করতে ব্যাবহারকারী আপনার ডোমেইন এর পরে স্ল্যাশ এর সাথে কিছু না কিছু যুক্ত দেখতে পায়। এটি ব্যাবহারকারী অনেকটাই এড়িয়ে যায়।
কিন্তু ডোমেইন নেইম এর আগে যা থাকে তা ইউনিক হয় এবং ব্যাবহারকারী তা সহজেই খেয়াল করে থাকে। তাই ব্যাবহারকারী এর অভিজ্ঞতার দিক দিয়ে চিন্তা করলে সাবডোমেইন একটি ভালো অপশন।
ব্র্যান্ডিং
ব্র্যান্ডিং এর দিক দিয়ে চিন্তা করলেও সাবডোমেইন ভালো অপশন।
- ব্লগের জন্য আপনি blog.abcd.com সাবডোমেইন তৈরী করতে পারেন।
- ইকর্মাস এর জন্য shop.abcd.com কিংবা store.abcd.com সাবডোমেইন তৈরী করতে পারেন।
- হেল্প অপশনের জন্য help.abcd.com সাবডোমেইন রাখতে পারেন।
এভাবে আপনার ওয়েবসাইটের মূল শাখাগুলো আলাদা আলাদা থাকে এর পাশাপাশি ব্যাবহারকারির সামনে আপনার ব্রান্ডের একটি প্রফেশনাল ইমেজ তৈরী হয়ে যায়।
abcd.com/store, example.com/help এগুলোকে ভিন্ন রকমভাবে উপস্থাপন কিছুটা বিরক্তিকর দেখাবে।
কিন্তু store.abcd.com এবং help.abcd.com কে আপনি ভিন ভিন্ন স্টাইল দিতে পারেন। বিশেষ উদ্দেশ্যে এগুলোকে ভিন্ন ভিন্ন রূপে উপস্থাপন করা যেতে পারে। ভিন্ন ভিন্ন ইউজার ইন্টারফেস দেয়া যেতে পারে। অর্থাৎ ব্র্যান্ডিং এর দিক দিয়ে চিন্তা করলেও সাবডোমেইন ভালো অপশন।
ডেভেলপমেন্ট
ডেভেলপমেন্ট এর দিকে চিন্তা করলে সাব ডোমেইন, সাব ডিরেক্টরি দুইটারই নিজস্ব সুবিধা এবং অসুবিধা রয়েছে।
সাব ডিরেক্টরিগুলোকে অন্য কোনো সার্ভর বা হোস্টিং এ শিফট করা সম্ভব তবে সেজন্য আপনাকে বেশি কষ্ট করতে হবে। এটি আপনার হোস্টিং সার্ভার এর উপর নির্ভর করে যে তারা একটি সব ফোল্ডার বা সব ডিরেক্টরিতে আসা ট্রাফিককে কোনো এক্সট্রানাল হোস্ট এ ফরওয়ার্ড করে কি না।
সাব ডোমেইন গুলোকে শুধু একটি সি নেইম রেকর্ড যুক্ত করে ভিন্ন ভিন্ন হোস্টিং সার্ভারে যুক্ত করা যেতে পারে। যেমন store.abcd.com এবং help.abcd.com ভিন্ন ভিন্ন হোস্টিং সার্ভারে সেটাপ করা যেতে পারে।
এ সকল সাব ডোমেইন গুলোতে ভিন্ন ভিন্ন স্টাইলের ওয়েবসাইট বানানো যেতে পারে। যদি আপনি হোস্টিং ভিন্ন ভিন্ন করার ইচ্ছা না থাকে তাহলে সাব ডিরেক্টরি একটি ভালো অপশন হবে। এজন্য আপনাকে নতুন ওয়েবসাইট তৈরি করতে হয় না, নতুন করে সব সেটাপ করতে হয় না। মেইন ওয়েবসাইটে আপনি যেই সেটাপ করবেন সেই একই সেটাপ সব ডিরেক্টরীগুলোতে থাকবে।
এস ই ও
এস ই ও এর দিক চিন্তা করে দেখলে সাব ডোমেইন, সাব ডিরেক্টরি অনেকটাই ভিন্ন ভিন্ন ভাবে কার্যকর। গুগলের জন্য সাব ডোমেইনগুলো একটি আরেকটি থেকে ভিন্ন ভিন্ন।
blog.abcd.com, shop.abcd.com, store.abcd.com, help.abcd.com এগুলো সার্চ ইঞ্জিনগুলোর জন্য ভিন্ন ভিন্ন। আপনার মেইন ডোমেইন abcd.com এর রাংক, অথরিটি, পেইজ রাংক, ডি এ, পি এ, সি এ, এম বি এ ইত্যাদি ফ্যাক্টর shop.abcd.com এর হবে না। এস ই ও এর ক্ষেত্রে shop.abcd.com একটি আলাদা ওয়েবসাইট।
যদি আপনি সার্চ কনসোলে https://abcd.com কে ভেরিফাই করে যুক্ত করেন তাহলে https://www.abcd.com এর ডাটা আপনি পাবেন না। কারণ শুরুতেই আমরা বলেছি www একটি সাবডোমেইন।
তবে এই লিমিটেশন এর অর্থ আপনাকে সকম সাবডোমেইনগুলোর জন্য ভিন্ন ভিন্ন এস ই ও ক্যাম্পেইন বানাতে হবে। ভিন্ন ভিন্ন কাজ করতে হবে। যা অনেকটা সময়সাপেক্ষ এবং এতে খরচ ও বেশি হয়।
সাব ডিরেক্টরি এর ক্ষেত্রে abcd.com এর জন্য যে যে ব্যাকলিংক রয়েছে তার বেনিফিট abcd.com/store ও পাবে,abcd.com/blog ও পাবে। ভিন্ন ভিন্ন এস ই ও ক্যাম্পেইন বানাতে হবে না। সময় এবং খরচ দুইটিই কম হবে।
তবে অনেক ক্ষেত্রেই এমন দেখা যায় যে আপনি মেইন ডোমেইন এর এস ই ও জোরপূর্বক সাবডোমেইন থেকে আলাদা রাখতে চান।
উদাহরণস্বরূপ আপনি ওয়েবসাইটে বিজনেস এর জন্য একটি সেকশন রাখতে চাইছেন এবং আপনি চাইছেন না যে এই বিজনেস এর কন্টেন্ট মেইন ওয়েসাইটের কন্টেন্ট কে কলুষিত করে।
এদিক দিয়ে চিন্তা করলে সাবডোমেইন একদম পারফেক্ট হবে। কারণ দুটি একটির থেকে আলাদা থাকবে। একটির সাথে আরেকটির কোনো সম্পর্ক থাকবে না।
এক্ষেত্রে গুগল অফিসিয়াল অত্যান্ত সরল পথ অনুসরণ করে। আপনি সাব ডোমেইন কিংবা সাব ডিরেক্টরি যাই ব্যাবহার করেন না কেন দুইটিই সে একই মনে করে। সব ডোমেইন এর জন্য গুগল এর কিছুদিন সময় লাগে সার্ভার কনফিগারেশন বুঝতে। এরপর সবকিছু একই থাকে।
উপসংহার
পরিশেষে বলা যায় সাব ডোমেইন এবং সাব ডিরেক্টরি এর ভিন্ন ভিন্ন প্রেক্ষিতে ব্যাবহারের সুবিধা এবং অসুবিধা রয়েছে। এদের মধ্যে কোনটি ভালো হবে তা আপনার ব্যবহারের উপর ভিত্তি করে নির্ধারিত হবে। চিন্তা ভাবনা করে আপনার ওয়েবসাইটের ব্যাবহারকারীদের কথা ভেবে সিদ্ধান্ত নিবেন। এর পাশাপাশি এস ই ও, ওয়েবসাইট ডেভেলপমেন্ট এর প্রক্রিয়া এবং ইনভেস্টমেন্ট এর বিষয়গুলো দেখবেন।
No comments